গল্প : স্নেহ
লেখক : মুনির আ চৌধুরী
রাত ২টা ১৩ মিনিট। বাসর ঘরের দরজায় টোকা পড়তেই কিছুটা অবাক হলো আদনান । উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখে আদনানের মা শেলী এক গ্লাস পানি একটা এলার্জি ট্যাবলেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন
– তোমার তো কাঁচা ফুলে এলার্জি তাই ওষুধটা দিতে এলাম। এলার্জি এট্যাক হয়ে গেলে তখন তো বিপদ হয়ে যাবে।
– আম্মা আমি ওষুধ অনেক আগেই খেয়ে ফেলেছি। তুমি ঘুমাওনি এখনো ? এত রাত জেগে আছো কেন ? সারা দিন অনেক খাটাখাটনি গেছে। প্রেসার বেড়ে যাবে তোমার। যাও ঘুমাও।
শেলী ছেলের মুখের দিকে কেমন করে যেন তাকালেন। সেই চাহনিতে কোথায় যেন এক বেদনার সুর , হারিয়ে ফেলার বেদনা। আদনান এই অবস্থায় কি করবে সে ঠিক বুঝতে পারছে না। মাকে সে জড়িয়ে ধরবে ? জড়িয়ে ধরতে গিয়েও ধরলো না। আদনানের নব বিবাহিত স্ত্রী তিন্নি দরজার দিকে তাকিয়ে আছে। আদনান ভাবছে তিন্নির সামনে মধ্যরাতে মায়ের সাথে এই সোহাগ দেখানোটা ঠিক হবে না।
– ঠিক আছে আম্মা ঘুমাও
বলে আদনান দরজাটা আবার বন্ধ করে দিলো।
দরজাটা লাগিয়ে দেবার পরেই আদনান তার বাবার ঝাঁঝালো কণ্ঠ শুনতে পেলো
– শেলী , তুমি ওদের রুমের সামনে কি করছো ? এটা ওদের বাসর রাত ! তুমি কি পাগল হয়ে গেছো ? এসো ঘুমাতে এসো।
আদনান বিছানায় যেতেই তিন্নি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললো
– কাঁচা ফুলে তোমার এলার্জি এটাতো জানতাম না ?
আদনান কিছুটা লজ্জিত এবং বিব্রত হয়ে বললো
– ধুর এই সব কিছুনা। একটু এলার্জি আছে তবে আম্মা আমাকে নিয়ে সব সময় বাড়াবাড়ি করেন। তুমি মনে কিছু করো না।
শেলী স্বামীর ঝাঁঝালো কণ্ঠ শুনে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লেন। দেয়ালে আদনানের একটা ছোট বেলার ছবির দিকে তাকিয়ে তিনি কল্পনায় হারিয়ে গেলেন।
১০ বছর হয়েছে কোন সন্তান হয় না । কত ডাক্তার কবিরাজ পীর ফকির তাবিজ টোটকা পানি পড়া কিছুতেই কিছু হয় না। আদনানের দাদী সুযোগ পেলেই কথা শুনিয়ে দেন। চার পাশের মানুষ গুলোও যেন কেমন। বাচ্চা হচ্ছে না তো সেটা সবাই জানে কিন্তু তাতে কি দেখা হলেই ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন…. কি শেলী বয়স হয়ে যাচ্ছে , আর দেরি কেন ? নিয়ে ফেলো … ভাবখানা এমন যেন ডিম পেড়ে বসে আছি কিন্তু ইচ্ছা করেই তা দিচ্ছি না।
শেষে এক বান্ধবীর পরামর্শে আদনানের বাবা কে রাজি করিয়ে ভারতে গেলাম। সেখানে যাবার পরে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার পর আমার একটি ছোট অপারেশন হলো। ডাক্তার বলে দিলেন বাড়ি গিয়ে চেষ্টা করুন। চেষ্টা করলাম। আদনান আসলো আমার কোল আলোকিত করে। তার পরেও অবশ্য চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু সফল হয়নি। আদনানের জন্মের দিন ঢাকায় ছিল হরতাল। আমার হটাৎ করে পেইন উঠেছে। কোন গাড়ি ঘোড়া চলছে না। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে কেঁদে কেঁদে বললাম এতো চেষ্টার ফসল এভাবে শেষ মুহর্তে যেন নষ্ট না হয়ে যায়। আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করলেন। বাসার দারোয়ান কোথা থেকে যেন একটা এম্বুলেন্স নিয়ে আসলো। হাসপাতালে গেলাম। সিজার করে আদনান কে বের করা হলো । আমি হঠাৎ শুনি একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ। আমি কল্পনাও করতে পারিনি এটা আমার সন্তানের কান্নার আওয়াজ। একটা মাত্র ছেলে আমার। জীবনের সব মাধুরী মিশিয়ে ছেলেকে বড় করেছি । বৃষ্টিতে ভিজে রোদে পুড়ে শহরের সেরা স্কুলে পড়ালেখা করিয়েছি। অপ্রাপ্তিকে কখনো স্পর্শ করতে দেইনি । সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে সুযোগ পেয়েছিল কিন্তু আমি সেখানে যেতে দেয়নি কষ্ট হবে বলে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছিল। সেখানে মারামারি কাটাকাটি তাই পয়সা দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি।সে জন্য বাবার দেয়া মিরপুরের ৫ কাঠা জমি বিক্রি করে দিয়েছি।
– শেলী কেঁদে কেঁদে আর বালিশ ভেজাতে হবে না। এটাই জীবনের ধর্ম। ছেলে বড় হবে বিয়ে করবে। এটাকে যত সহজে মানতে পারবে ততই মঙ্গল। দয়া করে ঘুমাও। না ঘুমিয়ে আবার প্রেসারটা বাড়িও না।
শেলীর স্বামীর কথায় শেলী বাস্তবে ফিরে এলেন। তিনি ছেলের ছোট বেলার ছবিটার দিকে আবার তাকালেন। মনে মনে স্থির করলেন যত দিন তিনি বেঁচে থাকবেন ততদিন এই ছবিটা এখানেই থাকবে। স্বামী স্ত্রীর ছবি দিয়ে আদনান দেয়াল ভরিয়ে ফেললেও তিনি এই ছবিটা কোন ভাবেই সরাতে দিবেন না।
তিন্নি নববিবাহিত বৌ হিসাবে সকালে গেল কিচেনে নাস্তা বানাতে। সেখানে গিয়ে পড়লো এক মহা ফ্যাসাদে। ডিম পোচ করতে গেছে তো শ্বাশুড়ি বলে উঠলেন
– বৌ মা আসলে আদনান ডিম পোচ খেতে পারে না। ওকে পেঁয়াজ কাঁচা মরিচ দিয়ে ডিম ভেজে দিও। কখনো ধনে পাতা দিবে না। সে ধনে পাতা একদম পছন্দ করে না।
টোস্টারে পাউরুটি টোস্ট করতে গিয়ে আবারও নির্দেশনা
– বৌ মা পাউরুটির উপরটা যেন বেশি বাদামি না হয়। সেটা দিলে আদনান কিছু বলবে না কিন্তু না খেয়ে উঠে চলে যাবে।
নাস্তার টেবিলে অনেক খাবার। আদনান আগের দিনের রান্না করা রোস্টে হাত বাড়াতেই শেলী বলে উঠলেন
– এসব আর খাসনে। এই কদিন তো তেল মশলার উপরেই ছিলে।
আদনান মায়ের কথা শুনে রোস্টটা আবার রেখে দিলো। তিন্নি আদনানের দিকে তাকিয়ে একটা ভারাক্রান্ত চাহনি দিলো।
চা বানাতে গিয়ে বাধলো আরেক বিপত্তি। চায়ের কাপে চা ঢেলে যেই না দুধ ঢালবে তিন্নি অমনি তিন্নির শ্বাশুড়ি বলে উঠলেন
– না না এতো দুধ দিও না। আমি তোমাকে দেখিয়ে দিচ্ছি কত টুকু দুধ দিতে হবে। আর চিনি তো একেবারেই না। আদনান বেশি দুধ খেলে পেট ফেঁপে যায়।
কথাটা শেষ হবা মাত্রই শেলীর স্বামী বলে উঠেলন
– শেলী একটু আমাদের ঘরে আসতো ?
শেলী কিছু না বুঝেই স্বামীর পিছন পিছন তাদের ঘরে চলে গেলেন
– শেলী তুমি কি করছো ? সে তো তোমার ছেলের বউ। সে তো কাজের বুয়া না। ডিম কেমন হবে পাউরুটি চায়ের দুধ কি বলছো এসব ? তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেলো ? মেয়েটা কি ভাববে বলতো ? তোমার ছেলেও বিব্রত বোধ করছে দেখতে পারছো না ?
শেলী স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন
– বৌ মাকে এসব শেখাতে হবে না ? আদনান তো একটু অন্য রকম। সে সব কিছু খেতে পারে না।
– আদনান মোটেও অন্যরকম না। আর অন্যরকম হলেও বৌমা সব কিছু ঠিক ঠিক শিখে যাবে। তোমাকে প্রতিটা কাজে নির্দেশনা দিতে হবে না। সে একটা শিক্ষিত মেয়ে। বৌমার মনটা শুরুতেই নষ্ট করে দিও না শেলী।
স্বামীর কথায় বেশ আহত হলেন শেলী।
আজ আদনান আর তিন্নি কক্সবাজার যাচ্ছে হানিমুনে। বিকাল ৫ টায় ফ্লাইট। তিন্নি জামা কাপড় ঘুছিয়ে নিয়েছে। মনের ভিতর একটা হাল্কা শঙ্কা ছিল শ্বাশুড়ী হয়তো এখানেও কিছু একটা নির্দেশনা দিবেন। কিন্তু সেটা হলো না। ঢাকা শহরের যানজটের কথা চিন্তা করে আদনান আর তিন্নি দুপুরের খাবারটা একটু আগেই সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু খাবার টেবিলে শেলী অনুপস্থিত। তিন্নি শেলীর খোঁজ করতে গিয়ে দেখে শেলী বিছানায় শুয়ে আছেন। তিন্নি শেলীর পাশে গিয়ে বসে বললো
– মা খেতে আসেন। সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
শেলী দেয়ালের দিকে তাকিয়েই বললেন
– তোমার খেয়ে নাও , আমার শরীরটা ভালো লাগছে না।
তিন্নি কিছু একটা বলতে গিয়ে আর বললো না।
বাড়ির ভিতর কেমন যেন একটা গুমোট ভাব। আদনানের সেটা ভালো লাগছে না। যাবার সময় হয়ে যাচ্ছে অথচ আম্মা কোথাও নেই। এমনি সময়ে আম্মা উপদেশ দিতে দিতে মাথাটা খারাপ করে ফেলতো। বেশি রাত জাগবে না , কলা আর ডিম ছাড়া বাইরের কোন খাবার খাবে না , এই টাকাটা রাখ বিপদআপদের কথা তো বলা যায় না ….আরো কত কি !
আদনান মায়ের রুমে দিকে পা বাড়ালো । শেলী বিছানায় শুয়ে আছেন। আদনান মায়ের গায়ে হাত রেখে বললো
– আম্মা আমরা যাচ্ছি।
– ফি আমানিল্লাহ
– আম্মা তুমি কি আমাদের উপর রাগ করেছো ?
– না তো
আদনান এই মুহূর্তে আর কোন নাটকীয়তার অবতারনা না করে সোজা তিন্নিকে নিয়ে গাড়িতে উঠলো।
ফ্লাইট দুই ঘণ্টা বিলম্ব । আদনান আর তিন্নি যখন কক্সবাজারে পৌছালো তখন রাত ৮টা। আদনান মায়ের ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েছিল কিন্তু শেলী ফোন ধরেননি। আদনান বিষয়টা ঠিক বুঝতে পারছে না। বাবা কে ফোন দিয়ে অবশ্য বলেছে যে তারা ঠিক ঠিক মতন পৌঁছেছে।
তিন্নি কক্সবাজারে পৌঁছে খুব উচ্ছ্বসিত। যদিও সে এখানে কয়েকবার এসেছে তার পরেও তার জীবনের একটা স্বপ্ন ছিল কাছের মানুষটাকে নিয়ে সে এখানে আবার আসবে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে সে আদনান কে অনেকটা টেনে হিঁচড়ে ঘুম থেকে উঠিয়ে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলো। অনেক সময় ধরে তারা সৈকতে হাটাহাটি করলো। সূর্য যখন ঠিক মাথার উপর তখন তারা হোটেলে ফিরে আসলো। হোটেলে ফিরেই তিন্নি কেমন যেন মুষড়ে পড়লো। দুপুরের খাবারের জন্য আদনান তাড়া দিচ্ছে তিন্নিকে কিন্তু তিন্নি বিছানা ছাড়ছে না। একসময় তিন্নি বলেই বসলো
– আদনান আমার খুব মাথা ব্যথা করছে তুমি রুম সার্ভিসে বলে দাও খাবারটা রুমে দিয়ে যেতে।
আদনান তিন্নির এমন আচরণে কিছুটা অবাক হলো।
– এই তোমার কি অনেক শরীর খারাপ লাগছে ? দুটো প্যারাসিটামল খেয়ে ফেলো। মাথা ব্যাথা চলে যাবে। নিচের দোকান থেকে নিয়ে আসি ?
বলেই আদনান রুম থেকে বেরিয়ে পড়লো।
আদনান ফিরে আসলো একটা অস্থিরতা নিয়ে। তিন্নি কে প্যারাসিটামল বাড়িয়ে দিয়ে সে তিন্নির দিকে তাকিয়ে থাকলো। বিষয়টা সে কিভাবে তিন্নিকে কে বলবে সে ঠিক বুঝতে পারছে না। মনে মনে ভাবলো আরো কিছুক্ষন যাক দেখি না কি হয় তার পর না হয় বলা যাবে। আর যদি সে রকম কিছু না হয় তা হলে চেপেই যাবে। আদনানের ভিতর অস্থিরতা বাড়ছে। ফোনে এখানে সেখানে টেক্সট দিচ্ছে। বারন্দায় গিয়ে একটার পর একটা ফোন দিচ্ছে। তিন্নি রুম অন্ধকার করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।
রুম সার্ভিস খাবার দিয়ে গেছে সে গুলো ঠান্ডা হয়ে গেছে। বিকাল ৫ টার দিকে আদনান অনুধাবন করলো বিষয়টি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে। তিন্নি কে সেটা জানানো উচিৎ।
– তিন্নি দুপুরে বাবা ফোন দিয়েছিলেন। আম্মাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আব্বা ভেবেছিলেন মনে হয় খালার বাসায় গেছেন কিন্তু তিনি সেখানে যাননি। আত্মীয় স্বজন সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নেয়া হয়েছে কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছেন না। বিষয়টা এখন থানা পুলিশের কাছে যেতে বাকি।
বলেই আদনান কেঁদে ফেললো। তিন্নি কথাটা শুনতেই বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠলো।
– তুমি একটু অপেক্ষা করো আমি আসছি
বলেই তিন্নি ঝড়ের বেগে রুম থেকে বেরিয়ে পড়লো। ফ্রন্ট ডেস্কে গিয়ে তিন্নি বললো
– শেলী রহমান আমার শ্বাশুড়ি। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি এই হোটেলে চেক ইন করেছেন। এয়ারপোর্ট থেকে আমাদের রিসিভ করার কথা কিন্তু আমাদের দেরি হয়ে গেলো। উনি কোন রুমে উঠেছেন একটু বলবেন ?
ফ্রন্ট ডেস্কের সুদর্শন যুবক তিন্নির দিকে তাকিয়ে বললো
– ম্যাডাম বোর্ডারদের কোন ইনফরমেশন কাউকে দেয়া নিষেধ। আমাকে মাফ করবেন। আপনি বরং এক কাজ করেন উনাকে ফোন দিয়ে উনার রুম নাম্বারটা জেনে নিন।
তিন্নি এবার একটু বুদ্ধি খাটিয়ে বললো
– আরে ভাই সমস্যাটা ঐ জায়গায়। শ্বাশুড়ি আসছে ছেলের বউ এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে যাই নাই তাই একটু মান অভিমান চলছে। ফোনটা ধরছেন না। প্লিজ রুম নাম্বারটা বলেন না ? হাতে পায়ে ধরে একটু মাফ পেয়ে এই যাত্রায় রক্ষা পাই।
রিসেপসনিস্ট কি বুঝলো কে জানে , তিন্নির দিকে তাকিয়ে বললো
– কি নাম যেন বললেন ?
– শেলী রহমান
কম্পিউটারে চেক করেই বললো
– ৩০৩ , বাট আমি কিন্তু আপনাকে কিছু বলি নাই।
শেলী একটা হাসি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে সে ছুটলো ৩০৩ নাম্বার রুমে।
– বিশ্বাস করো তিন্নি আমি ইচ্ছা করে এখানে আসিনি। আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারিনি। আদনান সাঁতার জানে না। কাল রাতে আমি দুঃস্বপ্ন দেখেছি আদনান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। আম্মা আম্মা বলে চিৎকার করছে। সারা রাত আর ঘুমাতে পারিনি। ভাবলাম লুকিয়ে লুকিয়ে ছেলের উপর একটু নজর রাখি। কেমন যেন অসহায় লাগছিলো নিজেকে। তাই সকলে ঘুম থেকে উঠে কাউকে কিছু না বলে সিনজি ডেকে সোজা এয়ারপোর্ট। তোমার শ্বশুরকে বললে আমাকে জীবনেও আসতে দিতো না।
– মা আপনি যে না বলে আসলেন , ফোন বন্ধ করে রেখেছেন আর ঐ দিকে যে কিয়ামত হয়ে যাচ্ছে। ভাগ্যিস দুপুরে হোটেলে ফেরার সময় আপনাকে আমি দেখে ছিলাম।
– আমি কি করবো বৌ মা ? আমার যে মন মানছিল না। আদনান সত্যি সাঁতার জানে না।
তিন্নি শ্বাশুড়ির হাতটা ধরে বললো
– মা নতুন বৌ হিসাবে আপনাকে কথাটা বলা ঠিক হবে কিনা জানিনা কিন্তু তার পরেও বলছি : গত ২৫ বছর আপনি আপনার ছেলেটাকে পরম মমতায় বড় করছেন। আপনার এখন বিশ্রাম নেবার সময় এসেছে। সেই দায়িত্বটা আপনি এখন আমাকে দেন। আমি কথা দিচ্ছি আপনার ছেলেকে আমি আপনার মতন করে দেখে রাখবো।
তার পরেই তিন্নি বলে উঠলো
– ড্যামেজ তো একটা করে ফেলছেন। এখন ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে হবে। দেখি আসেন। চুলটা সুন্দর করে সেট করে দেই। ঠোঁটে লিপস্টিক দেন। কানের দুল পড়েন।
– কি বলছো বৌমা এসব ?
– আমি যা বলছি তাই করেন তো ! ছেলের সাথে এখন শ্বাশুড়ীরও দায়িত্ব নিলাম।
আদনান বাবার সাথে কথা বলছে। আদনানের বাবা থানায় যাচ্ছেন পুলিশ রিপোর্ট করতে। আর ঠিক তখনই তিন্নির ফেসবুকে একটা ছবি পোস্ট হলো
শেলী সৈকতে দাঁড়িয়ে তিন্নি তার পাশে । দুজনের মুখেই হাসি। ফ্লাশ লাইটে তোলা ছবিটা দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। ছবির উপরে লেখা
শ্বাশুড়ির সাথে কক্সবাজার ! সবাইকে দিলাম সারপ্রাইজ ! সারপ্রাইজ ! সারপ্রাইজ ! সারপ্রাইজ !
(সমাপ্ত)