১৮৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। আমেরিকার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড শহর তখন ঘন কুয়াশায় ঢাকা। শীতের সেই সকালে ক্লিভল্যান্ডের ২৬ জন স্বাধীন তেল শোধনাগারের (রিফাইনারি) মালিকদের বুকে যেন হঠাৎ করে এক হিমশীতল আতঙ্কের ঢেউ আছড়ে পড়ল ।
কয়েকদিন আগেও যাঁরা বুক ফুলিয়ে স্বাধীনভাবে লাভজনক ব্যবসা করছিলেন, তাঁরা এক সকালে খবরের কাগজ খুলে আকাশ থেকে পড়লেন। রেলওয়ে কোম্পানিগুলো রাতারাতি ট্রেনের মাধ্যমে তেল পরিবহনের ভাড়া দ্বিগুণ করে দিয়েছে ! সেই যুগে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তেল নেওয়ার একমাত্র উপায় ছিল ট্রেন । ব্যবসায়ীরা হিসাব কষে দেখলেন, এই বাড়তি ভাড়া দিয়ে তেল বাজারে পাঠালে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাঁরা সবাই দেউলিয়া হয়ে রাস্তায় বসে যাবেন
দিশেহারা হয়ে শোধনাগারের মালিকেরা যখন রেলওয়ে কোম্পানিগুলোর কাছে গিয়ে এর কারণ জানতে চাইলেন, তখন অন্ধকারের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলো এক ভয়ংকর এবং চতুর চক্রান্তের গল্প ।
নেপথ্যের জাদুকর এবং এক গোপন মাফিয়া চুক্তি
রেলওয়ে কোম্পানিগুলো একাই এই কাজ করেনি । এই পুরো নাটকের পেছনে সুতো নাড়াচ্ছিলেন মাত্র ৩৩ বছর বয়সী এক শান্ত, ধীরস্থির এবং চরম হিসেবি তরুণ—জন ডি. রকফেলার।
রকফেলার এবং রেলওয়ে মালিকেরা গোপনে হাত মিলিয়ে সাউথ ইম্প্রুভমেন্ট কোম্পানি নামে একটি রহস্যময় ছায়া সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন । তাঁদের মধ্যকার চুক্তিটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই ‘মাফিয়া স্টাইল’ ব্যবসায়িক ফাঁদ
১. রকফেলারের কোম্পানি ‘স্ট্যান্ডার্ড অয়েল’ প্রতিদিন ট্রেনগুলোকে বিপুল পরিমাণ তেলের গ্যারান্টি দেবে ।
২. এর বিনিময়ে রেলওয়ে কোম্পানিগুলো রকফেলারকে ভাড়ায় বিশাল ছাড় (Rebate) দেবে ।
৩. আর রকফেলারের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য ট্রেনের ভাড়া করে দেওয়া হবে দ্বিগুণ ।
৪. সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল—প্রতিদ্বন্দ্বীরা যে বাড়তি ভাড়া দেবে, সেই টাকার একটা বড় অংশ ‘ড্রব্যাক’ বা বোনাস হিসেবে সরাসরি চলে যাবে রকফেলারের পকেটে ! অর্থাৎ, অন্য ব্যবসায়ীরা যত বেশি তেল বিক্রি করার চেষ্টা করবেন, রকফেলার ঘরে বসেই তত বড়লোক হবেন।
এটি স্বাধীন ব্যবসায়ীদের জন্য ছিল একটি অলিখিত মৃত্যু পরোয়ানা। পুরো ক্লিভল্যান্ড জুড়েই তখন হাহাকার আর আতঙ্ক ।
রকফেলারের চরমপত্র: “বিক্রি করো, নয়তো ধ্বংস হও”
ব্যবসায়ীদের এই মানসিক বিপর্যয়কে দারুণভাবে কাজে লাগালেন রকফেলার। তিনি কোনো লাঠিয়াল বাহিনী পাঠালেন না, কোনো রক্তপাত করলেন না । তিনি নিজেই অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র পোশাকে প্রতিদ্বন্দ্বী মালিকদের অফিসে গিয়ে হাজির হতেন । মুখে মৃদু হাসি নিয়ে, শান্ত গলায় তিনি ব্যবসায়ীদের বলতেন:
“আপনার ব্যবসার অবস্থা তো খুবই খারাপ। একটা কাজ করুন, আপনার কোম্পানিটি আমার কাছে পানির দামে বিক্রি করে দিন। বিনিময়ে আমার স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের কিছু শেয়ার নিন, অথবা নগদ কিছু টাকা নিয়ে বিদায় হোন । আর যদি বিক্রি না করেন, তবে মনে রাখবেন—আপনি চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবেন ।”
এটি কোনো অনুরোধ ছিল না, এটি ছিল একটি ভয়ংকর চরমপত্র । নিরুপায় ব্যবসায়ীরা চোখের সামনে নিজের তিলে তিলে গড়া সাম্রাজ্য ধ্বংস হতে দেখছিলেন রকফেলারের এই মায়াবী কিন্তু নিষ্ঠুর ফাঁদের সামনে একে একে সবাই হাঁটু গেঁড়ে বসতে শুরু করলেন।
মাত্র ৬ সপ্তাহের আত্মসমর্পণ
ইতিহাস স্তম্ভিত হয়ে দেখল, মাত্র ৬ সপ্তাহের মধ্যে ক্লিভল্যান্ডের ২৬টি স্বাধীন তেল শোধনাগারের মধ্যে ২২টি কোম্পানি রকফেলারের পায়ে দাসখত লিখে দিয়ে আত্মসমর্পণ করল ।
যে দু-একজন জেদি ব্যবসায়ী নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে রকফেলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তাঁদের কপালে জুটল চরম নির্মমতা । রকফেলার তাঁর বিপুল টাকার জোরে নিজের উৎপাদিত তেলের দাম বাজারের স্বাভাবিক মূল্যের চেয়েও অনেক কমিয়ে দিলেন। ফলে ক্রেতারা সবাই স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের দিকে ঝুঁকে পড়ল আর স্বাধীন ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনতে গুনতে বাজার থেকে চিরতরে মুছে গেলেন ।
কর্পোরেট ইতিহাসের এই রক্তপাতহীন কিন্তু নির্মম গণহত্যাটিকেই বলা হয় ‘ক্লিভল্যান্ড ম্যাসাকার’ বা ক্লিভল্যান্ড হত্যাকাণ্ড ।
মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পুরো ক্লিভল্যান্ডের তেলের বাজার চলে আসে রকফেলারের হাতের মুঠোয় । আর এভাবেই শুরু হয়েছিল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একচেটিয়া কর্পোরেট দানব “স্ট্যান্ডার্ড অয়েল”-এর জয়যাত্রা, যা রকফেলারকে পরিণত করেছিল ইতিহাসের শীর্ষ ধনীতে ।
গল্পের পরবর্তী অংশ আরও রোমাঞ্চকর! রকফেলারের এই আগ্রাসনে এক স্বাধীন ব্যবসায়ী সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন, যাঁর ছোট মেয়েটি বড় হয়ে বাবার কান্নার প্রতিশোধ নিয়েছিলেন নিজের কলম দিয়ে।
রকফেলারের সেই নির্মম ক্লিভল্যান্ড ম্যাসাকারের সময় সর্বস্বান্ত হওয়া স্বাধীন ব্যবসায়ীদের একজন ছিলেন পেন্সিলভেনিয়ার এক তেল ব্যবসায়ী. রকফেলারের আগ্রাসী নীতির কারণে রাতারাতি তাঁর পুরো ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যায় . বাবার সেই অসহায়ত্ব, হতাশা আর চোখের পানি ছোটবেলায় নিজের চোখে দেখেছিলেন তাঁর ছোট্ট মেয়ে—আইডা টারবেল (Ida Tarbell)
আইডা তখনই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, এই অন্যায়ের জবাব তিনি একদিন দেবেনই. তবে কোনো অস্ত্র বা লাঠি দিয়ে নয়, তাঁর অস্ত্র ছিল কলম.
বড় হয়ে আইডা একজন দুর্দান্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিক (Investigative Journalist) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন . ১৯০২ সালের দিকে তিনি আমেরিকার বিখ্যাত ‘ম্যাকক্লিওরস ম্যাগাজিন’-এ কাজ করার সময় সিদ্ধান্ত নেন, এবার তিনি জন ডি. রকফেলারের সেই অন্ধকার আর রহস্যময় সাম্রাজ্যের মুখোশ টেনে ছিঁড়বেন .
শুরু হলো ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর এক লড়াই—একদিকে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ও ক্ষমতাধর কর্পোরেট দানব, অন্যদিকে সাধারণ এক নারী সাংবাদিক!
আইডার বছরের পর বছর ধরে চালানো গোয়েন্দাগিরি
রকফেলার ছিলেন অত্যন্ত রহস্যময় মানুষ . তিনি কখনো সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতেন না এবং তাঁর কোম্পানির সব নথিপত্র কড়া পাহারায় গোপন রাখা হতো . কিন্তু আইডা দমে যাওয়ার পাত্রী ছিলেন না . তিনি বছরের পর বছর ধরে:
- আদালতের ধুলোবালি জমা পুরনো রেকর্ড ঘাঁটলেন .
- রেলওয়ের মালপত্রের পুরনো রসিদ ও ট্রেনের বুকিং খাতা জোগাড় করলেন .
- রকফেলারের কোম্পানির ভেতরের কিছু অসন্তুষ্ট কর্মকর্তা এবং তাঁর হাতে সর্বস্বান্ত হওয়া শত শত ব্যবসায়ীর সাথে গোপনে দেখা করে সাক্ষাৎকার নিলেন .
ধীরে ধীরে আইডার কাছে স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের সেই ভয়ংকর ব্লুপ্রিন্ট পরিষ্কার হতে শুরু করল . তিনি প্রমাণসহ ধরে ফেললেন কীভাবে রকফেলার গুপ্তচর (Spy) লাগিয়ে প্রতিযোগীদের ব্যবসার তথ্য চুরি করতেন, কীভাবে রেলের সাথে গোপন চুক্তি করতেন এবং কীভাবে কৃত্রিমভাবে দাম কমিয়ে অন্যদের ধ্বংস করতেন
কলমের এক খোঁচায় কেঁপে উঠল ৪০০ বিলিয়নের সাম্রাজ্য
১৯০৪ সালে আইডা তাঁর এই দীর্ঘ অনুসন্ধানের সব তথ্য জোড়া দিয়ে একটি বই প্রকাশ করলেন, যার নাম ছিল ‘দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি’ (The History of the Standard Oil Company)
বইটি বাজারে আসতেই পুরো আমেরিকায় যেন একটা পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটল ! সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় বড় রাজনীতিবিদরা স্তম্ভিত হয়ে গেলেন ). সবাই বুঝতে পারলেন, রকফেলার কোনো জাদু বা দক্ষতায় এত বড় ধনী হননি; বরং চরম জালিয়াতি, জিম্মি আর বেআইনি চক্রান্তের মাধ্যমে তিনি এই সাম্রাজ্য গড়েছেন .
জনসাধারণের মধ্যে রকফেলারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও জনরোষ তৈরি হলো . রকফেলার নিজে এই রিপোর্ট পড়ে ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন . কিন্তু বাইরে তাঁর চিরাচরিত শান্ত ভাব ধরে রেখে আইডাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ডাকতেন “মিস টার-ব্যারেল” (আলকাতরার ব্যারেল) বলে . কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি, এই এক নারী সাংবাদিকের কলমের জোর তাঁর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে .
রুজভেল্টের এন্ট্রি এবং সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়
আইডার তৈরি করা এই প্রবল জনমতের ওপর ভর করে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজবেল্ট (যাঁকে ‘ট্রাস্ট বাস্টার’ বা মনোপলি ধ্বংসকারী বলা হতো) নড়েচড়ে বসলেন . মার্কিন সরকার ১৮৯০ সালের ‘শারম্যান অ্যান্টি-ট্রাস্ট অ্যাক্ট’ আইনটি ব্যবহার করে স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক মামলা ঠুকে দিল . অভিযোগ একটাই—স্ট্যান্ডার্ড অয়েল স্বাধীন বাণিজ্যে বাধা দিচ্ছে এবং বেআইনিভাবে একচেটিয়া রাজত্ব চালাচ্ছে .
বছরের পর বছর ধরে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এই মামলা চলল . অবশেষে ১৯১১ সালের ১৫ই মে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করল . প্রধান বিচারপতি রায় দিলেন: “স্ট্যান্ডার্ড অয়েল একটি বেআইনি মনোপলি।” আদালত নির্দেশ দিল, রকফেলারের এই বিশাল অখণ্ড সাম্রাজ্যকে ভেঙে অন্তত ৩৪টি আলাদা এবং স্বাধীন কোম্পানি করে দিতে হবে !
তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল রকফেলারের ৪১ বছরের তিলে তিলে গড়া একচ্ছত্র সাম্রাজ্য (17:15). (মজার ব্যাপার হলো, স্ট্যান্ডার্ড অয়েল ভেঙে জন্ম নেওয়া সেই ৩৪টি কোম্পানিই আজ বিশ্বের বিখ্যাত সব তেল দানব—যেমন এক্সন, মোবিল এবং শেভরন) !
গল্পের শেষ টুইস্ট: শাস্তি যখন পুরস্কারে রূপ নেয়!
গল্পের আসল এবং সবচেয়ে বড় প্রহসনটি ঘটেছিল এই রায়ের ঠিক পর পরই ! সুপ্রিম কোর্ট ভেবেছিল তারা রকফেলারকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এই রায় রকফেলারকে ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী মানুষে পরিণত করল !
কীভাবে? স্ট্যান্ডার্ড অয়েল যখন একটা বড় কোম্পানি ছিল, তখন শেয়ার বাজারে তার দাম কিছুটা কম ছিল কিন্তু যখন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এটিকে ৩৪টি ছোট কোম্পানিতে ভাগ করে আলাদাভাবে শেয়ার বাজারে ছাড়া হলো, তখন বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারলেন যে এই ছোট প্রতিটি কোম্পানির আলাদা মূল্য অনেক বেশি ! রাতারাতি সেই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম রকেটের গতিতে বাড়তে শুরু করল .
যেহেতু মূল স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের ২৫% শেয়ারের মালিক ছিলেন রকফেলার নিজে, তাই আইন অনুযায়ী তিনি নতুন ৩৪টি কোম্পানির প্রতিটিরই ২৫% শেয়ারের মালিক হয়ে গেলেন . মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে রকফেলারের ব্যক্তিগত সম্পদ তিন গুণ বেড়ে গিয়ে দাঁড়াল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে, যা তৎকালীন আমেরিকার মোট জিডিপির প্রায় ২% , বর্তমান বাজারের মূল্যে যা ছিল প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার, যা আজকের ইলন মাস্ক বা জেফ বেজোসের সম্পদের চেয়েও অনেক বেশি !
সে সময় ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা হাসাহাসি করে বলতেন, “হে ঈশ্বর, আমাকেও সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে এমন একটা শাস্তি দাও!”
আইডা টারবেল হয়তো রকফেলারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করতে পারেননি, কিন্তু তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে স্বৈরাচারী কর্পোরেট শক্তির চেয়ে সত্য এবং কলমের শক্তি অনেক বেশি পরাক্রমশালী।
রকফেলারের জীবনের শেষ অধ্যায়টি কিন্তু আরও অদ্ভুত ছিল। এই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও জীবনের শেষ ৪০ বছর তিনি সম্পূর্ণ বদলে যান এবং দানশীলতার এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেন।
কেন তিনি বদলে গেলেন
- অসুস্থতা: ৫৩ বছর বয়সে তিনি মারাত্মক এক আলোপেশিয়া রোগে আক্রান্ত হন। তাঁর চুল, ভ্রু ও গোঁফ ঝরে যায়।
- ডাক্তারের সতর্কবাণী: ডাক্তার জানান, মানসিক চাপ ও লোভের জীবন বজায় রাখলে তিনি এক বছরের বেশি বাঁচবেন না।
- নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: এই ধাক্কা তাঁকে জীবনকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। তিনি বুঝতে পারেন, অর্থ সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যায় না।
দানশীলতার বড় কাজগুলো
- শিক্ষা বিস্তার: তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং দরিদ্র দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষায় প্রচুর অর্থ দেন।
- চিকিৎসা বিজ্ঞান: তিনি রকফেলার ফাউন্ডেশন গড়েন। এটি হলুদ জ্বর ও ম্যালেরিয়া নির্মূলে কাজ করে। আজকের আধুনিক মেডিকেল সায়েন্স গঠনে এর বড় ভূমিকা আছে।
- জনকল্যাণ: তিনি পার্ক, গবেষণাগার এবং পাবলিক হেলথ সিস্টেম গড়ে তুলতে শত শত কোটি ডলার দান করেন।
- ডাইম (১০ সেন্ট) বিলানো: তিনি যেখানেই যেতেন, পকেটে ছোট মুদ্রা (Dime) রাখতেন। রাস্তায় কোনো শিশু বা দরিদ্র মানুষ দেখলে হাসিমুখে তা উপহার দিতেন।
অদ্ভুত পরিণতি
ডাক্তাররা বলেছিলেন তিনি এক বছরের বেশি বাঁচবেন না। কিন্তু দানশীলতার এক শান্ত, চাপহীন জীবন বেছে নেওয়ার পর রকফেলার আরও ৪৫ বছর বেঁচে ছিলেন। তিনি ৯৭ বছর বয়সে যখন মারা যান, ততদিনে তিনি তাঁর আয়ের সিংহভাগ মানবকল্যাণে দান করে গেছেন।
নিষ্ঠুর “তেল ব্যবসায়ী” থেকে তিনি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে রইলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা “মানব হিতৈষী” হিসেবে।