সেক্স এডুকেশন ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম জেনেই আমি ন্যান্সি ফ্রাইডের ‘ মাই সিক্রেট গার্ডেন; ওমেন সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিস” বইটি খুব যত্ন করে পড়েছি। বই মানুষের জন্য জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়। নিজেদের যৌন ফ্যান্টাসির জগতে থাকতে থাকতে আমরা ভুলে যাই, সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি নিয়ে নারীদেরও একটা সুন্দর জগৎ আছে।নারীদের সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি জানার আগ্রহ থেকেই নারী যৌনতার উপর আমার আগ্রহ বেড়েছে।
নারীদের নিয়ে ন্যান্সি ফ্রাইডে আরও একটি বই লিখেছেন, যার নাম ‘ উইমেন অন টপ’।
নারীদের ভগাঙ্কুর ( clitoral) ও যোনি ( Vagainal G- spot) উদ্দীপনার মাধ্যমে নারীর শরীরে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় , তা লজ্জায় নারীরা বলতে পারে না।নারীর ঠোঁটে চুমু দিয়ে এই লজ্জা ভেঙে গেলেই কবিতার মতো নারীর ঠোট গুলো তার যৌন চাহিদার গল্প বলতে শুরু করে।এই গল্প নারীর শরীরের গল্প , তার চাহিদার গল্প।এই গল্পে মিশে থাকে শারীরিক উত্তেজনা।সেই উত্তেজনা ছুঁতেই পারে না পৃথিবীর বেশীরভাগ পুরুষ।নারীকে কামোত্তোজিত না করেই নিজের শারীরিক সুখ উদযাপন করে পুরুষরা পৃথিবীতে ” হুর পরীর ” গল্প লিখে ফেললো। এজন্য ধর্ম গ্রন্থগুলো নারীর শরীর, তাদের যৌন চাহিদা , তাদের কাম উত্তেজিত হওয়ার গল্পটাই কোনদিন জানতে চায়নি। নারীদের সম্পর্কে মানুষের এই অজ্ঞতা নারীদের ভোগ্যপণ্য বানিয়ে ফেলেছে পৃথিবীতে।
একজন স্বাধীনচেতা নারীকে সমাজ ও পরিবার বাঁকা চোখে দেখে। পোশাকের নীচে শরীরটার কথা ভেবে পুরুষরা কামাতুর হয়।বোরকা পরা যে নারীটা তার শরীরকে লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে, দিনশেষে সেও পুরুষের কামের কাছে, নিজের শরীরের চাহিদার কাছে পরাজিত হয়।কোন না কোন পুরুষ তার শরীরের বোরকা খুলে নেয়।বোরকা পরে যদি নারীর শরীরের সেক্স লুকানো যেতো , তবে মধ্যযুগে নারীর যৌনিতে লোহার বেড়ি পরিয়ে আদিম উল্লাস করতো না পুরুষ। ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া , থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন জায়গায় নারীদের যোনি পুজা হয়।বোরকা/ বস্তা যাই নারীকে পরানো হোক, নারীর যৌন আবেদন কখনোই লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।নারীর অজান্তেই তার স্তন পুষ্ট হবে, ঠোঁটে যৌন উত্তেজনার সৃষ্টি হবে, শরীরে কাঁপুনি আসবে, কাউকে খুব আপন করে সে পাশে পেতে চাইবে।এতে আমি অপরাধের কিছুই দেখি না। পুরুষের মত নারীর এই শারীরিক চাহিদা সম্পূর্ণ প্রকৃতির সৃষ্টি।নারী ইচ্ছে করলেও তার সেক্সুয়াল উপস্থিতি লুকিয়ে রাখতে পারবে না। এজন্য নারীদের যৌন সম্ভোগের জন্য পুরুষ বিভিন্ন ফাঁদ পাতে।এসব আটকে অসংখ্য নারীর জীবন নষ্ট হয়ে যায়।
আমাদের শৈশব ও কৈশোরে আমরা ভালোবাসার ফ্যান্টাসির যুগে ছিলাম। প্রিয় মানুষটির দাঁড়িয়ে এক খানা চিঠি দিতে আমাদের হাত পায়ে কাঁপুনি শুরু হতো।
নারীদের প্রতি সম্মান থেকেই ওদের সামনে গিয়ে আমাদের মাথা নত হতো।এখন তরুণ তরুণীরা সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির যুগে বসবাস করছে। হাতের কাছেই ফেসবুক, ইউটিউব, মন চাইলেই পর্ন দেখা যায়। ইচ্ছে করলেই কাউকে বন্ধু বানিয়ে তার সাথে যৌন সম্পর্ক উপভোগ করা যায়। এভাবে সস্তা হতে হতে হারিয়ে গেছে ভালোবাসার সুন্দর সম্পর্ক। ভালোবাসা ও প্রেম বলতে একদল আহম্মক শুধু যৌনতা বুঝে। এদের আপনি বোরকা/ বস্তা বন্দি করে কতদিন খাঁচায় ভরে রাখবেন? খাঁচার ভেতরে তারা যৌনতার মাষ্টারবেট সেরে ফেলবে।
গতকাল রাতে একটা মুভি দেখার পর থেকে সারারাত আমি যৌনতার গল্পে ডুবে ছিলাম একটা ১৩ বছরের কিশোরী সুস্মিতার নামে ফেসবুক একাউন্ট করে তার আরেক বান্ধবী তার নগ্ন ভিডিও রোজ ফেসবুকে আপলোড দিতে থাকে। একদিন সুস্মিতার স্কুলের বন্ধু তার বাবাকে সেই ভিডিওগুলো পাঠিয়ে সুস্মিতার পরিবারকে ব্লাকমেইল করা শুরু করে।এর ভেতরে গিয়ে জানা যায় কুৎসিত দেখতে সুস্মিতার এক বান্ধবী রোজ সুস্মিতার নামে নিজের মুখ বাদ দিয়ে শরীরের নগ্ন ভিডিও পোস্ট করে পুরুষদের উত্তেজিত করতো।এই উত্তেজনা সহ্য করতে না পেরে মসজিদের ইমাম , মাদ্রাসার হুজুর , মন্দিরের ঠাকুর ও পিতার বয়সী মানুষ কন্যা বয়সী সুস্মিতার সাথে সেক্স করতে চায়।শত শত পুরুষ দাঁড়িয়ে যায় ১৩ বছরের সুস্মিতার সাথে সেক্স করার জন্য।এই পুরুষদের মধ্যে একমাত্র আলাদা পুরুষ ছিলো আলিম।সে কখনোই সুস্মিতার সাথে সেক্স করতে চায়নি।না দেখেই ভালোবেসেছিল সুস্মিতাকে ।তার এই গল্পের পেছনে একটা করুন কাহিনী ছিলো।তার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছিল।তার কিশোরী বোনকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল।অথচ সমাজে আমরা পীর , দরবেশ ও জামায়াতে ইসলাম বানিয়ে রোজ পুজো দিচ্ছি ওরা আমাদের কন্যাদের জন্য পুরুষ নামক ধর্ষক হয়ে রোজ সামনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।আমরা যাদের সভ্য নাগরিক বলছি তাদের অধিকাংশই মনে মনে একজন পুরুষ ধর্ষক।যারা তার কন্যাকেও ধর্ষণ করতে চায়।এমন হাস্যকর ও ভীতিকর মানব সমাজে ধর্মের বাণী প্রচার হাস্যকর গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।
আমার স্বপ্নে যৌন চাহিদার আকাঙ্ক্ষা ভাসে। ঘুমের মাঝেও আমার কাউকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে।আমারও শারীরিক চাহিদা আছে।তাই বলে একজন নারীর পোশাকের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে , তার কর্মের অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে, তার স্বাধীনতা ছিনিয়ে তাকে খাঁচার পশু বানিয়ে সেক্সুয়াল ব্লাকমেইল ফ্যান্টাসি কতটুকু যৌক্তিক? একটা নারীকে জোর করে সেক্স করা, তার মনের বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে যৌন সম্ভোগের বস্তু বানানো, তার শরীরের বর্ণণা দিয়ে তাকে ধীরে ধীরে সেক্সুয়াল ব্লাকমেইল করা এসব আজকাল পুরুষদের বৈশিষ্ট্য হয়ে গেছে।মুখে ধর্মের বাণী প্রচার করে, নারীদের হাত ও পা দেখা পাপ ঘোষণা করে আমাদের চারপাশে রোজ জন্ম নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ পুরুষ ধর্ষক।ধর্ম এদের কাছে একটা লোক দেখানো গ্রন্থ ছাড়া আর কিছুই নয়। ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদের পশু বানিয়ে যৌন সম্ভোগ এদের একমাত্র উদ্দেশ্য। এজন্য এরা স্বর্গেও হুর পরী সাজিয়ে বসে আছে।অথচ ধর্মগ্রন্থ নারীদের স্বাভাবিক যৌন চাহিদাকে স্বীকৃতি দিলে এভাবে আমাদের কন্যা সন্তানরা আমাদের চোখের সামনে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতো না।
বান্দরবানের এক মাদ্রাসার হুজুর রোজ তার স্ত্রীর অবর্তমানে তার মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যাকে জোর করে সেক্স করতেন। বাংলাদেশের অসংখ্য মাদ্রাসায় রোজ শিশুদের বলাৎকার করা হয়।শুধু নারী নয় , পুরুষ শিশু পর্যন্ত সমাজ ও রাষ্ট্রে নিরাপদ নয়। যে মেয়েটি বোরকা পরে তার পিতার কাছেই নিরাপদ নয়, যে ছোট শিশুটিকে যোনাঙ্গ কেটে তার চাচা ধর্ষণ করছেন, যে পুরুষ প্রেমিক সেজে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীকে ধর্ষণ করেছেন, বন্ধু সেজে নারীকে সেক্সুয়াল হ্যারেজম্যান্ট করছেন, এরপর ফেসবুকে আবার গো আযম ও কসাই কাদেরর পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিচ্ছেন, তাদের কি কোনকালেই লজ্জা ছিল?
সেক্স ও নারীর শরীর কোনটাই লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়।সমাজ , পরিবার ও রাষ্ট্রে সেক্স এডুকেশন নেই বলেই আজ আমাদের দেশে নারীরা খাচার পশু ছাড়া যেন আর কিছুই নয়। নারীদের হাত ও পা দেখা পাপ করে বহুবিবাহের নামে রোজ নারীদের ধর্ষণ করছে।একই বহুবিবাহের কথা কোন নারী উচ্চারণ করলেই তা পাপ হয়ে যায়। এজন্য পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেক হয়ে নারীদের কোন ধর্মগ্রন্থ নেই, নারীদের কোন সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি থাকতে নাই। পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থ তাই পুরুষরাই তৈরি করেছে। নিজের যৌন ইচ্ছা থেকেই তারা হুর পরীর গল্প সাজিয়ে।একদল আহম্মক নারী সেই হুর পরীর গল্প বিশ্বাস করে।অথচ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ওরা যদি একবার নিজেকে জিজ্ঞেস করতো, স্বর্গে তাদের জন্য কয় জন পুরুষ রাখা হয়েছে?
আজকের আধুনিক যুগে এসে দিন দিন ধর্মের ভণ্ডামি ফাঁস হচ্ছে।নারী তার শরীরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির জগত তারও আছে। নারীরা যখনি তাদের এই শারীরিক চাহিদার গল্প লিখতে শুরু করবে সেদিন থেকে ধর্মের সব দেয়াল এক এক করে খসে পড়বে। পুরুষের বানানো যৌন সামগ্রী না হয়ে নিজেদের যৌন জীবন উপভোগ করে প্রতিটি নারী।পৃথিবী শুধু পুরুষের একার কেন হবে? পুরুষের নুনুভুতির ভাইরাসের কাছে নারীরা কেন তাদের চাওয়া পাওয়া ধুলোয় মিশিয়ে দিবে?
কেন নারীরা প্রাণ খুলে হাসলে অপরাধ হবে?
কেন নারীরা খোলা চুলে হাঁটলে ধর্মে পাপ হবে?
পুরুষের কেন এই পাপ হয় না?
কেন নারীরা পায়ে আলতা ও নুপুর পরে খালি পায়ে হাঁটলে ধর্মে পাপ হবে?
কেন নারী শাড়ি পরলে পুরুষের নুনুভুতির ভাইরাস সৃষ্টি হবে?
কেন নারী ও পুরুষ পাশাপাশি হাতে হাত ধরে হাঁটলে ধর্মে পাপ হবে?
এসব ধর্মগ্রন্থ আসলে কাদের জন্য রচিত হয়েছে?
নারীরা তাদের যৌনতা কেন লুকাবে? পৃথিবীর সব আইন ও ধর্মগ্রন্থের আইন কি শুধুই নারীর জন্য?
যখনি নারীরা তাদের শরীরের গল্প লিখে তখনি পুরুষের চুলকানি শুরু হয়। এই চুলকানি থেকেই জন্ম নুনুভুতির ভাইরাস।
ধর্মগ্রন্থ পড়ে , বাংলায় অনুবাদ করে ন্যান্সি ফ্রাইডের লেখা বইগুলো পড়ুন। কথা দিচ্ছি, আপনার মনের জগত সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে।নিজেকে ধর্ম গ্রন্থের ও পুরুষ সমাজের তৈরি যৌনসামগ্রী না ভেবে মানুষ ভাবতে শিখলেই তবেই কেবল নারী মুক্তি মিলবে। যৌনতা কোন পাপ নয় , এসব নারী ও পুরুষের প্রকৃতিগত শারীরিক অনুভূতি মাত্র। শরীরের এই অনুভূতি যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে তারাই হচ্ছে প্রকৃত মানুষ। যাদের শারীরিক অনুভূতির উপর নিয়ন্ত্রণ নেই, ধর্মগ্রন্থ পড়তে পড়তে মস্তিষ্ক পচে গেছে, নারীর দিকে তাকালে নুনুভুতির ভাইরাস ছাড়া আর কিছুই কাজ করে না, মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে যাদের নূন্যতম সেক্স এডুকেশন নেই, ওরাই হচ্ছে মানুষ নামের পশু ও ধর্ষক।
মানুষ না পশু হবেন এই সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার।।
সত্য সবসময় সুন্দর