“ফোরপ্লে ‘ হচ্ছে যৌনমিলনের পূর্বপ্রস্তুতি।চুমু , স্পর্শ , আলিঙ্গন ও ঘনিষ্ঠ যৌন ক্রিয়াকলাপের একটি মাধ্যম।
কালো লেজের ধসূর অ্যান্টিচিনাস ও রূপোলী মাথার অ্যান্টিচিনাস মারসুপিয়াল ইঁদুরগুলো একটানা দীর্ঘ ১৪ ঘন্টা করে সঙ্গীনির সাথে সেক্স করতে গিয়ে পৃথিবী থেকে দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।অথচ, আমি সঙ্গীহীন হয়েও এখনও পৃথিবীতে টিকে আছি।
সপুস্পক উদ্ভিদের যৌনাঙ্গে পুরুষ ও নারী উভয়েরই বিদ্যমান থাকে। পুরুষ গ্যামেট কঠিন চামড়ায় আবৃত হয়ে পরাগরেণু গঠন করে।নারী গ্যামেট সে পরাগরেণু নিষিক্ত করে বীজ তৈরি করে। এভাবেই উদ্ভিদ পৃথিবীতে দূর দুরান্তে ছড়িয়ে গেছে।ফুল , ফল ও উদ্ভিদের যৌনমিলনের ফলে ধীরে ধীরে পৃথিবীতে অক্সিজেনের মাত্রা বেড়েছে।এর থেকেই একটা সময় মানুষ প্রজাতির উদ্ভব হয়েছে।
আজ থেকে ২.৪ বিলিয়ন বছর আগে “দ্য গ্রেট অক্সিজেন ‘ নামে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম অক্সিজেনের উপস্থিতি ছিল মাত্র ০.১ শতাংশ। সমুদ্রের তলায় ছত্রাকদের যৌনমিলনের ফলে ধীরে পৃথিবী একটি সবুজ পৃথিবীতে পরিণত হয়। ধীরে ধীরে সৃষ্টি হয় নানান প্রজাতির পাখি ও প্রাণ।পাখিরা হচ্ছে মেসোজয়িক যুগে ডায়নোসর থেকে বিবর্তিত একটি প্রাণ।ফুল ও ফলের বীজ নিজের ঠোঁটে করে সারাবিশ্বে এই প্রাণী ছড়িয়ে দিয়েছে। এইভাবে প্রাণের মাধ্যমে নতুন প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীতে।
বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইনের এইচএমএস বিগল জাহাজ নোঙর করেছিল গ্যালাপোগাস দ্বীপপুঞ্জে। অ্যান্টার্কটিকা ছেড়ে নিরক্ষয় রেখায় বসবাস করা পেঙ্গুইন এই গ্যালাপোগাসেই সম্ভব হয়েছিল। এখানেই সমুদ্রের তলায় বাস করে ‘ সি লায়ন ‘ নামক সিংহ। দিন ও রাত সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানো পরিপূর্ণ নিশাচর সোয়ালো পাখির উপস্থিতি, রাতের সাগরে ভাসতে থাকা জ্বলজ্বল প্লাংকটন দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন চার্লস ডারউইন।লিখে ফেললেন তার অমর সৃষ্টি ” অন দ্য অরিজিন অফ স্পিসিস” । সমগ্র বিশ্বকে অবাক করে দিলেন বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন।এই গ্যালাপোগাসেই ডারউইন খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন পাখিদের সেক্স। ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্রিগেট বার্ড, নীল পায়ের বুবি , লাল পায়ের বুবি, নাজুকা বুবি, প্যাচা, পেলিকান, ফ্ল্যামিঙ্গো এবং সর্বশেষ যৌনমিলনের ফলে জন্ম নেওয়া ক্যাকটাস ফ্রিঞ্চ প্রজাতির পাখি। যৌনমিলন ও বিবর্তন এই দুটোকে খুব কাছ থেকেই দেখেছিলেন চার্লস ডারউইন।
ক্যাকটাস ফ্রিঞ্চ পাখি খুব চমৎকার গাইতে পারে। নিজের সঙ্গীনিকে গানে গানে ডাকে ।ফ্রিঞ্চ প্রজাতির পাখি তাদের শক্ত ঠোঁট দিয়ে ক্যাকটাসের রস খায় বলে এই প্রজাতির নাম ক্যাকটাস ফ্রিঞ্চ।পরিবেশগত ভিন্নতার কারণে ২০ থেকে ৩০ লাখ বছর আগে এরা বিবর্তিত হতে হতে বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস ফ্রিঞ্চ জন্ম দেয়। বর্তমানে এই প্রজাতির সংখ্যা ৩০ টি।এই প্রজাতির পাখিরা অন্য প্রজাতির পাখির সাথে যৌনমিলন করে নতুন এক প্রজাতির জন্ম দেয়।এতে সবসময় নতুন প্রজাতি টিকে যায় এবং পুরাতন প্রজাতি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
মানব শরীরে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে মিউটেশন হয় , যা জটিল , ইতিবাচক, নেতিবাচক ও নিরপেক্ষ হতে পারে। তিব্বতের উঁচু গুহায় মানুষের আদি প্রজাতি ডেনিসোভানদের বসবাসের প্রমাণ আছে।সাইবেরিয়ায় নিয়ানডারথাল ও ডেনিসোভানের সেক্সের গল্পের প্রমাণ ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়েছে। নিয়ানডারথাল ও ডেনিসোভানদের যৌনমিলনের ফলে মানব প্রজাতির মধ্যে অদ্ভুত এক নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরাকের কুর্দিস্থানের গুহায় পাওয়া আজ থেকে ৭৫ হাজার বছর পূর্বে মারা যাওয়া এক নিয়ানডারথাল নারীর জীবাশ্ম পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন মানুষ যে প্রজাতি থেকে এসেছে নিয়ানডারথাল একই প্রজাতি থেকে এসেছে। মানুষের শরীরে নিয়ানডারথাল এর ডিএনএ পাওয়া গেছে।আজ থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার বছর পূর্বে নিয়ানডারথাল পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
নিয়ানডারথালের ব্রেইনের আকার মানুষ থেকে বড় হলেও ওরা মানুষের মত এত বুদ্ধিমান ছিলো না। কিন্তু মানুষের আজকের এই পর্যায়ে আসার পেছনে নিয়ানডারথালের ভুমিকা ছিল অনেক বেশী। নিয়ানডারথাল লিভালইস টেকনিক সহ বর্শা , কুড়াল ও অস্ত্র বানিয়ে নিজেদের রক্ষা করা শিখে গিয়েছিলো।ওরা পৃথিবীর মানুষকে আগুন জ্বালানো শিখিয়ে গেছে।
নিজেদের শরীরকে গরম রাখার জন্য তারা আগুনের ব্যবহার শিখেছিলো।নিজ প্রজাতির মাংস খাওয়ার ক্যানিবালিজম পদ্ধতির কারণে ধীরে ধীরে নিয়ানডারথাল পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এখানেই হোমো স্যাপিয়েন্সরা তাদের জায়গা দখল করে নিয়েছে এবং আজও পৃথিবীতে টিকে আছে।আমরা আধুনিক পৃথিবীর মানুষ সবাই হোমো স্যাপিয়েন্সদের বংশধর।
যৌনতা নিয়ে আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবারে কথা বলা একদম নিষিদ্ধ।নারী মুয়ুরের মত নারীরাও পুরুষকে বিভিন্নভাবে আকর্ষণ করে। পুরুষ ও নারীর এই আকর্ষণ হাজার লক্ষ বছরের পুরোনো ঐতিহ্য।
নারীর শরীরের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থেকে পুরুষের শরীরে যৌন উত্তেজনা দেখা দেয়। পুরুষ কামাতুর হয়ে যৌনতার সঠিক ব্যবহার আজও শিখেনি। নারীদের শরীরের অদ্ভুত ঘ্রাণের পেছনে না ছুটে , তাদের চুলের ঘ্রাণে মুগ্ধ না হয়ে , তীব্র কামোত্তেজনায় পুড়ে পুরুষগুলো মারসুপিয়াল ইঁদুর হয়ে গেছে।যৌনতার প্রতি তীব্র আকর্ষণ থেকে ওরা স্বর্গের কাহিনী প্রচার করেছে।নারীর সাথে সহবাস ছাড়া যেন আর কোন কাজ নেই।এর ফলে পুরুষের যৌন ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তাদের ওয়াই ক্রোমোজমের সংখ্যা দিন কমে যাচ্ছে।যার ফলে সমগ্র পৃথিবীতে দিন দিন পুরুষদের সংখ্যা কমে আসছে।এভাবে কমতে কমতে হাজার হাজার বছর পর পুরুষ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
একটা নারীকে ভেজা শরীরে দেখলে কামোত্তেজনা হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে মারসুপিয়াল ইঁদুরের প্রজিতি হতে হবে কেন।নারীর চোখে চোখ রেখে যৌনতার শব্দের বৃষ্টি ঝরাও।নারীর হাতে হাত রেখে প্রতিশ্রুতির গল্প দীর্ঘ হোক।নারীকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে প্রেমের গল্প হোক। চুমুতে চুমুতে ভালোবাসার উঠোন ভরে উঠুক।আদর ও যত্নে যৌনমিলন হোক কাব্যর মত নৈস্বর্গিক সুন্দর। কিন্তু আমাদের প্রজন্ম হাসের মত নারীর শরীরের উপর তীব্র কামোত্তেজনা থেকে উঠে দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে যৌন রোগীদের মত যৌন উত্তেজনা ঠুস হয়ে যায়।যার ফলে বেশীরভাগ নারীই যৌন মিলনে তৃপ্ত নয়।।
গতকাল একটানা ৮ ঘন্টা আরেকটি সিরিজ দেখছিলাম। একটুও ক্লান্তি আসেনি আমার। পাহাড়ের মাঝখানে নির্জনে দু’জনের চুমো খাওয়ার স্বর্গীয় দৃশ্য দেখেছি। নদীর পাড়ে একে অপরকে কোলে বসিয়ে স্বর্গীয় আদরের দৃশ্য, কিংবা একই রুমে শুয়ে যৌনতার অদ্ভুত সব শিহরণের দৃশ্য দেখে পুলকিত হয়েছি।এসব একমাত্র সম্ভব গভীর ভালোবাসা থেকে। ভালোবাসা গভীর হলে সঙ্গীর প্রতি যৌন আকর্ষণ কোনদিনও কমবে না।সত্তর বছরের বুড়ো ও বুড়িকে তখন মনে হবে ১৮ বছরের তরুণ ও তরুণী। কিন্তু ভালোবাসাহীন যৌনতা নিয়ানডারথালদের মত পৃথিবী থেকে মানুষ প্রজাতি বিলুপ্ত করে দিবে এটাই সত্য।
পুরুষের সাথে নারীর যৌন মিলন একটি স্বাভাবিক বিষয়।এই যৌনমিলন মিনিমাম এক ঘন্টা ধরে হতে হবে।
দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই একটি ঘন্টা হতে হবে স্বর্গীয় সুন্দর। দীর্ঘ সময় ধরে সেক্স করতে হলে নিজেদের যৌন মিলনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।নারী দেখলেই যাদের দন্ড খাড়া হয়ে যায় তারা কোনদিন দীর্ঘ যৌনমিলন করতে পারে না। দীর্ঘ যৌন মিলনের জন্য ওরা বিভিন্ন রাসায়নিক ট্যাবলেট গ্রহণ করে যা তাদের যৌন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এজন্য পুরুষ প্রজাতি নারীদেরকে সান্ডার গল্প শোনাচ্ছে।অথচ পুরুষের মধ্যে রয়েছে তীব্র যৌন শক্তি। জগতের সকল খারাপ চিন্তা ছেড়ে নারীকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে দেখুন।তাকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখুন। নিজের যৌন ক্ষমতাকে কন্ট্রোল করার মাধ্যমে তা হতে পারে আপনার যৌন শক্তি।
বুড়ি সবসময় বলে , ” কন্ট্রোল”। প্রথম প্রথম এই কন্ট্রোলে আমার ভীষণ বিরক্তি এসে যেতো। কিন্তু পরবর্তীতে বুঝলাম , প্রিয় মানুষের হাতে এক কাপ চা , তার কন্ঠে গান ও কবিতা শোনা, কিংবা তার চোখের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত মায়ায় হারিয়ে যাওয়াই হচ্ছে জীবনের স্বর্গীয় সৌন্দর্য।মায়ায় ডুবে যান তবেই যৌনমিলন হবে দীর্ঘস্থায়ী।”ফোরপ্লে” শব্দটা শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্য। নিজের যৌন সঙ্গীকে একজন মানুষ ভাবতে শিখুন। তাঁর যৌন আবদেনের গুরুত্ব দিন। প্রিয় মানুষটিকে যৌনতার চোখে না দেখে মানুষের চোখ দিয়ে দেখুন।তবে দেখবেন , যৌনতা ছাড়াও পৃথিবী অদ্ভুত সুন্দর।।
সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম