সারা দেশের পতিতারা রাস্তায় নেমেছে। বড় বড় প্ল্যাকার্ডে লেখা,”সব পুরুষাঙ্গর ভার আমাদের,বেতনের ভার সরকারের “, “পতিতালয় সরকারি করণ চাই”, ” আমরা বাঁচি পেটে ভাতে, সোনামণি বাঁচুক জীবন নিয়ে”।
আরিচা ঘাট, ময়মনসিংহ রোড,যশোররোড,প্রেসক্লাব অবরোধ হয়ে আছে সকাল থেকেই।একটি গাড়িও এগোতে পারছেনা,পুলিশ বার কয়েক চেষ্টার পর তাদের একচুলও নড়াতে পারেনি।প্রেসক্লাবের সামনে শয়ে শয়ে সাংবাদিক এসে জড়ো হচ্ছে।পতিতাদের সাথে হিজড়ারা যোগ দেয়াতে আন্দোলন ব্যাপক মাত্রা পেয়েছে।তবে সাধারণ জনগণ, সাংবাদিক, সরকার প্রধানরা মোটেও এই আন্দোলনের গতিবিধি বুঝে উঠতে পারছে না।
প্রেসক্লাবে থাকা পতিতাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব স্থানীয় এক পতিতা সামনে এগিয়ে এসেছে। সাংবাদিকরা তাদের ক্যামেরা তাক করিয়ে রেখেছেন তার দিকে,সারা দেশ জুড়ে লাইভ টেলিক্যাস্ট হচ্ছে।
আনন্দ টিভির সাংবাদিকঃ আপনাদের আসল দাবিটা কী?
পতিতাঃ আমাদের অনেক গুলো দাবি।একটা হচ্ছে,দেশের সমস্ত পতিতালয় সরকারি করণ করতে হবে।আমাদের যাবতীয় ভরণপোষণের দায়িত্ব সরকার নেবে।
নোহা টিভির সাংবাদিকঃ আপনারা তো কাজের বিনিময়ে টাকা পাচ্ছেন ই তবে কেন সরকারের কাছে টাকা চাচ্ছেন?
পতিতাঃ আমরা কাজের বিনিময়ে যেই টাকাটা নিচ্ছি সেই টাকাটা দেবার মত সামর্থ্য পুরুষসমাজের নেই।সামর্থ্য না থাকলেও তাদের তো পুরুষাঙ্গ আছে।সেটারও তো কিছু খায়েশ আছে, আমরা সেই খায়েশটা বিনামূল্যে পূরণ করে দিতে চাই।তার জবাবে সরকার আমাদের টাকা দেবে।
সাদাকালো টিভির সাংবাদিকঃ এতে সরকারের লাভটা কী?
পতিতাঃ সরকার শিশু মৃত্যুহার কমাতে বছরের পর বছর হাজার কোটি টাকা ঢালছে,ফ্রিতে চিকিৎসা দিচ্ছে তখন তো প্রশ্ন করেন না এতে সরকারের লাভ কী! এখন করছেন কেন?এই বছর চারশোর উপর শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে যার ভেতর মারা গেছে ছাব্বিশজন। বাকিদের চার পাঁচ বছরের যোনিগুলো ক্ষত বিক্ষত হয়েছে,কারোটা ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়া হয়েছে।নিউমোনিয়া, পক্স, অটিজম রোধে টিকা দিয়ে যে শিশুটাকে বাঁচাচ্ছেন সেই শিশুটাই তো ঘুরেফিরে ধর্ষণের শিকার হয়ে খুন হচ্ছে। এর পরেও জিজ্ঞেস করবেন,সরকারের লাভটা কী?
সাদাকালো টিভির সাংবাদিক খানিকটা থতমত খেয়ে বলল,যৌন চাহিদা মেটানোর ভার নিশ্চয়ই কোন দেশের সরকারের উপর বর্তায় না
পতিতাঃ কোন দেশের উপর বর্তায় সেটা জানিনা।তবে যে দেশে স্কুলের ছোট্ট বাচ্চাটাকে,মাদ্রাসার ছোট্ট বাচ্চাটার উপর আপনাদের মত পুরুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার যোনি ব্লেড দিয়ে কেটে বড় করে দেয়,যৌন চাহিদা মিটে যাবার পর বাচ্চাটাকে খুন করে ফেলে দেয় সে দেশের পুরুষ সমাজের চৌন চাহিদাকে মৌলিক চাহিদার ভেতর অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। খেতে না পারে এই দেশে এক বছরে বড়জোর একশটা মানুষ মরে যায় কিন্তু যৌন চাহিদার শিকার হয়ে আপনার বোন,প্রেমিকা,সন্তান হাজারে হাজারে মরছে।চলন্ত বাস থেকে রেপ করে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে।তবুও বলবেন এই দায়িত্ব সরকারের উপর বর্তায় না?
প্রেসক্লাব বেশ থমথমে হয়ে আছে,উপস্থিত সাংবাদিকদরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে।প্রতিটা টিভি চ্যানেলে লাখ লাখ মানুষের চোখ আটকে আছে।
তারা টিভির সাংবাদিকঃ ধর্ষণ রোধে আইনের প্রয়োগ নেই বলতে চাচ্ছেন আপনারা?
পতিতাঃ ২০১৬ সালে ধর্ষণের শিকার হয় সাড়ে আটশোজন,২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয় এগারোশ জন,২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয় আটশো আঠারো জন।২০১৭ সাল পর্যন্ত ধর্ষণ মামলা হয় ৪৫৪১ টি, শাস্তি হয় মোটে ৬০ টি মামলার।তবুও কি প্রশ্ন করবেন,আইনের প্রয়োগে আমাদের আস্থা আছে কিনা?
ধ্রুব টিভির সাংবাদিকঃ আপনাদের দাবি তাহলে কয়টি?
পতিতাঃ আমাদের দাবি একটিই,সরকার পতিতাদের ভরণপোষণের দায় দায়িত্ব নিক।আমরা পতিতারা পুরুষ সমাজের পুরুষাঙ্গের দায়িত্ব নিব। আপনার স্কুল পড়ুয়া দুই বেণি করা বাচ্চাটার স্কুলের সামনে আমরা আমাদের ব্রাঞ্চ খুলে রাখব,কোন শিক্ষকের খায়েশ জাগলেই আমাদের এখানে ছুটে আসবে ব্লেড দিয়ে আপনার বাচ্চার যোনি কেটে তাকে মেরে ফেলে দিবেনা।প্রয়োজনে একটা কল সেন্টার খুলে হোম সার্ভিস দিয়ে আসব তবুও যেন মাদ্রাসার হুজুর,বাস ড্রাইভার হেলপার,ওমক তোমক নেতা পুরুষত্ব ফলাতে কারো সন্তান,বোনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে তাকে শ্বাসরোধ করে না মারে।
লাইভ টেলিক্যাস্ট দেখে প্রতিটা জেলা শহরের পতিতারা রাস্তায় নেমে এসেছে।নারীর সম্মান,জীবন বাঁচানোর দায় আজন্ম নারীর কাঁধেই ছিল,পুরুষ কেবল আপনা ঘরের দায়ভার নিয়ে বেড়াচ্ছে। অন্য ঘরের মেয়েকে রেপ করে মেরে ফেলতে তার বুক কাঁপেনি,কাঁপেনা।
ধ্রুব টিভির সাংবাদিক তল্পিতল্পা গুছিয়ে যেই গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিল তখন পেছন থেকে কেউ একজন বলল,শিহাব! অনেকদিন পর তোকে দেখলাম।ভালো থাকিস। ধ্রুব টিভির সাংবাদিক শিহাব পেছন ফিরতেই অবাক হয়ে দেখল এই পতিতা তার চেনা মুখ! তার ইন্টারমিডিয়েটের বান্ধবী পপি! শিহাবের চোখের সামনে ভেসে উঠল,পপি রেপ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।তার বাবা মা গলায় দড়ি দিয়ে মরেছে।শিহাবকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পপি ভিড়ের ভেতর হারিয়ে গেল,যেমন করে পনেরো বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিল।পপিরা হারিয়ে গিয়ে বাঁচতে চায়,আর আমরা সামনে টেনে এনে মারতে চাই।
লিখেছেনঃ Borhan Uddin