বৌকে ভীষণ ভালোবেসেও কি নিয়মিত অন্য মেয়েদের সাথে শোয়া যায়?
জ্বী। যায়।
আমি নিজে অন্তত ৩ জন এমন ভাই ব্রাদার চিনি, যারা তাদের বৌ এর এক্সেস লেভেলের কেয়ার করে, ভালোবাসে।
আবার দেশ বিদেশে বা অফিসে হোটেলে নিয়মিত শোয়ও।
কেউ ধরা খায়নি। খাবেও না৷ সব পাসওয়ার্ড সব ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ সবকিছু বৌদের দেয়া।
বেশি সমস্যা হইলে মাথায় হাত দিয়ে কসম খেয়ে ঝামেলা শেষ করে।
তর্ক করতে যান। লাভ নাই। উনারা উনাদের কাজ নিয়ে কনফিডেন্ট।
আমি আমার বৌকে ভালোবাসি, কেয়ার করি, যত্ন করে, ফিজিক্যাল ডিমান্ড পূরণ করি।
এরপর আরও মেয়েদের সাথে শুই।
ক্ষতি কী করতেসি?
এই প্রশ্নের কী উত্তর আছে আপনার কাছে?
খোদা না থাকলে, ক্যারেক্টার বলে কিছু নাই। কিচ্ছু না।
উমেরা আহমেদ লিখেছেন, তোমার ক্যারেক্টার তোমার আর খোদার ব্যাপার।
এরচেয়ে বড় সত্য কথা আর কী আছে?
ইভেন যখন হাতে ডিভাইস ছিল না, পকেটে পয়সা ছিল না, মাথায় বুদ্ধি ছিল না, আমার আপনার মা বাবা কি আমাদের পারসে পর্ণ ভিডিও থেকে ঠেকাইতে?
পারে নাই।
প্রতিটা ছেলে মেয়েই হাই স্কুল পার করার আগেই পর্ণ দেখসে।
এখন অনেকে এসে ফেরেশতা সাজবে, আমার তিন রুমমেটের মধ্যে দুই রুমমেটও ফার্স্ট ইয়ারে বিশাল সাধু সেজে বলেছিল, ছি ছি, এসব হারাম। এসব আমি দেখি না।
তো হঠাৎ করে দুইদিনে দুইজনেরই দুইটা ক্রোমের ট্যাব ওপেন হয়ে গেছিল। একেবারে হাটে হাড়ি ভাঙা যাকে বলে।
তো, সাধু সাইজা তো লাভ নাই। আমরা সবাই এই এডাল্টিং এর মধ্যে দিয়ে গেছি। বাপ মা, হুজুর সবার এত এত কঠোরতা সত্ত্বেও।
সো, কঠোর হয়ে কি ক্যারেক্টার রক্ষা করা যায়?
যায় না।
কোমল হয়ে?
তাও যায় না।
পৃথিবীর সবচেয়ে আন্ডারস্ট্যান্ডিং, সবচেয়ে সুন্দরী স্ত্রী হয়েও কি আপনি চিটিং ঠেকাইতে পারবেন?
পারবেন না।
২৪ ঘন্টা চোখে চোখে রেখেও পারবেন?
পারবেন না।
জাহান্নামের ভয় দেখাইয়া পারবেন?
তাও পারবেন না। মাদ্রাসার ছেলে আর মেয়েরা তো করেই, হুজুরদের অবস্থা দেখতেসেনই।
খুব ভালোবাসা কি ক্যারেক্টার হেফাজত করতে পারে?
উহু।
উপরের ঐ তিন বড় ভাইই বৌকে প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসে।
এন্ড যেহেতু ছেলেরা গোপন করতে পারে, মেয়েরাও পারে।
আবার ক্যারেক্টার এর সবটাই কি সেক্স রিলেটেড?
না।
আমি রাস্তাঘাটে দেখি লোকজন কোন লজ্জা ছাড়াই মেয়েদের শরীর স্ক্যান করে চোখ দিয়ে।
কেমনে ঠেকাবেন?
গায়ের জোরে?
বহু লোকজন বিবাহ করার পরেও স্ট্রেঞ্জারদের নিয়ে সেক্সুয়াল চিন্তা করে। এটাও তো বাজে ক্যারেক্টার৷
এইটা কেমনে অফ করবেন?
চিন্তার পাসওয়ার্ড কেমনে নিবেন?
তাইলে জিনিসটা দাঁড়াইল কী?
বাবা কি ক্যারেক্টার ঠেকাইতে পারে? না।
মা? না।
ভাই-বোন? না।
পার্টনার? না।
ভালোবাসা? কেয়ার? পজেসিভনেস? তাও না।
সন্তান? না।
আপনি বাংলাদেশেই লাখ লাখ মানুষ পাবেন যারা সন্তান হওয়ার পর পরকীয়া করে।
তাহলে ক্যারেক্টার এর একমাত্র গ্যারান্টি কে?
খোদা।
মানুষের চিন্তার পাসওয়ার্ড, ফেসবুকের পাসওয়ার্ড, মনের পাসওয়ার্ড আর শরীরের পাসওয়ার্ড একজনই।
খোদা।
নামাজ রোজা পড়ে, সারাদিন কুরআন হাদিস ঝাড়া খোদা না।
একেবারে অন্তরের মধ্যে যদি খোদার বসবাস থাকে, একমাত্র তখনই মানুষ ক্যারেক্টার হেফাজত করতে পারে।
তার আগে পারে না।
দুনিয়ার সকল স্ট্রিক্টনেস দিয়েও যেমন আপনার মা বাপ আপনার পর্ণ দেখা আর প্রেম করা ঠেকাইতে পারে নাই।
আপনার বৌ বা জামাইও পারবে না।
যারা উমেরা আহমেদের এই লাইনে সমস্যা দেখছেন, তারা মানুষকে খুব স্ট্রং ভাবতেসেন।
আসলে, মানুষ এত স্ট্রং সৃষ্টি না।
আপনি যতই গায়ের জোর দেখান, ভালোবেসে একাকার করে ফেলেন, জগৎ সংসার তন্ন তন্ন করে এনে দেন ১০৮ টা প্রেমের নীলপদ্ম,
এসব কোন গ্যারান্টি না।
কখনো ছিলোও না।
মানুষের অন্তর অনন্ত।
এই অনন্ত অন্তরকে পরিপূর্ণ করার ক্ষমতা কোন মানুষকে দেয়া হয়নি।
অন্তর পূর্ণ করার একমাত্র ক্ষমতা, খোদার।
অন্যের ক্যারেক্টার নিয়ে কখনোই নিজের উপর খুব বেশি কনফিডেন্স রাখবেন না।
কনফিডেন্স রাখবেন একমাত্র, খোদার উপর।
নিজেকে এত চালাক ভাবার কিছু নাই।
আপনার পার্টনার আপনাকে যে পাস্ট এর গল্প শুনাইসে, সেটা কতটুকু সত্যি?
আপনার পার্টনারের সব পাসওয়ার্ড আপনার কাছে, মাথার মধ্যে যে অন্য কেউ নাই, কেমনে শিওর হচ্ছেন?
সো, ক্যারেক্টার, ভালোবাসা, পাস্ট, প্রেজেন্ট, ফিউচার সব দেখার আগে দেখবেন,
মানুষটার অন্তরে খোদা আছে কি না।
আমরা সবাই মনে করি, পার্টনার বা সন্তান আমাদের ভয় পাইলেই আমরা জিতে যাই।
ভুল। মানুষের জীবনে এমন অনেক গোপন মুহুর্ত, গোপন সুযোগ আসবে, যেখানে আপনার ভয়টা আর থাকবে না।
তখন কেমনে প্রোটেক্ট করবেন?
এরচেয়ে দেখেন, তার মনে খোদার ভয় আছে কি না?
যদি থাকে, মহাবিশ্ব ঘুরে আসলেও আপনার কোন টেনশন করতে হবে না।
তোমার চরিত্র নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যথা নাই, এটা তোমার আর খোদার ব্যাপার,
কথাটা কোনভাবেই দুর্বল কোন কথা না।
বরং এইটা একটা শেকল। বাপের ভয়, মায়ের ভয়, পার্টনারের ভয়, সমাজের ভয়, ইমেজের ভয় যেখানে কাজ করে না,
খোদা সেখানেও থাকেন। খোদার ভয়ও সেখানে থাকে।
ক্যারেক্টার বলেন, বিশ্বাস বলেন, ভয় বলেন সবকিছুই মানুষের সাধ্যের বাইরের জিনিস। এন্ড এসব কন্ট্রোল করতে গেলেই মারা খাবেন।
আপনার পার্টনার আপনার ভয়ে মেয়ে দেখে না, এটা কোন গর্ব বা সুকুনের কথা না।
বরং যেদিন আপনার পার্টনার খোদার ভয়ে মেয়ে দেখা বাদ দিবে, আপনার সুকুনটা একমাত্র সেদিনই আপনার কাছে ধরা দেবে।
নিজেকে ছেড়ে খোদার উপর ভরসা করতে পারাটা তাই দুর্বলতা না,
বরং ভয়ংকর সুন্দর একটা ব্যাপার!!
সাদিকুর রহমান খান