প্রেমিকা যখন বউ
মানেন তো বউয়ের থেকে প্রেমিকার ক্ষমতা বেশি? যারা ভাবছেন এটি আবার কেমন কথা তারা লেখাটি পুরোটা পড়বেন । কেউ ধার্মিক দৃষ্টিতে দেখবেন না আশা করি। নিতান্তই বাস্তবতার আলোকে আমার এই লেখা।
আমার এক ভাগ্নি প্রেম করে যার সাথে সে খুব মদ খাওয়া ছেলে। আমি একদিন জিজ্ঞেস করলাম তানিয়া তুমি যার সাথে প্রেম করো সে তো মদ খায় এমন একটি ছেলের সাথে প্রেম করো? ছিঃ ছিঃ আমি হলে কোন দিনও করতাম না।
তানিয়া বলে আন্টি প্রেম কি আর মদ খোর গাঁজা খোর চেনে? প্রেম তো অন্ধ!
আমি ভাবনায় পরি, সবাই বলে প্রেম অন্ধ আচ্ছা এই প্রেমের কি চোখ আছে? না থাকলে মানুষ তাকে অন্ধ বলে কেন? যাই হোক বিষয় সেটা না, বিষয় হলো তানিয়ার প্রেম। তানিয়া বলে আন্টি দেইখেন একদিন আমি তাকে এইসব থেকে ছাড়িয়ে আনবোই। তাকে ভালো করবোই! আমি বললাম ভালো করলেই ভালো!
মজার ব্যপার কি জানেন? ছয় মাসের মধ্যে তানিয়া ছেলেটিকে ভালো করে ফেললো।মানে ছেলেটি মদ খাওয়া একদমই ছেড়ে দিল। আমিও অবাক।
কি এবার মানলেন তো প্রেমিকার ক্ষমতা ? মজার বিষয় হলো তারা বিয়ে করেছে। সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো তখন, যখন তানিয়ার একটি মেয়ে হলো। তার স্বামী আস্তে আস্তে আগের মতো মদ খেতে লাগলো। এখন তানিয়া অনেক বাধা দেয় কিন্তু সে শুনে না। এই নিয়ে তানিয়ার সংসারে অশান্তি লেগেই আছে। শেষমেশ তানিয়া তাকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে আসে মেয়েকে নিয়ে। এখন তানিয়া বুঝে কোন নেশা খোর মানুষের সাথে সংসার করা যায় না! তানিয়া প্রেমিকা থাকতে পেরেছিল কিন্তু স্ত্রী হওয়ার পরে তার প্রেমের আর জোর নেই যে স্বামীকে ভালো করবে!
এই বিষয়টি আমিও এখন হাড়ে হাড়ে টের পাই। যখন আমি রাশেদের সাথে প্রেম করতাম তখন সে আমার সব কথা শুনতো। আমি তখন কলেজে পড়ি। রাশেদের সাথে তখন থেকেই প্রেম। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে। প্রায় খেলাই রাতে হতো। এক রাতে রাশেদ ফোন দিল, আমি বললাম ইস! এখন যদি তোমাকে দেখতে পেতাম।
রাশেদ _ আমাকে কি তোমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে?
আমি_ হুম
রাত তিনটা রাশেদ আবার ফোন দিল। তোমাদের বারান্দায় আসো।
আমি_ কেন? বারান্দায় কি?
রাশেদ _ একবার এসেই দেখ
আমি বারান্দায় যেয়ে দেখি রাশেদ নিচে দাঁড়িয়ে আছে। আমি অবাক এত রাতে তুমি এখানে কি করছো?
রাশেদ _ তুমি না আমাকে দেখতে চাইলে? তাই এই রাতে এসে পড়লাম।
আজ সাত বছর হলো রাশেদের সংসার করছি।এখন রাত আট টায় রাশেদকে ফোন দিয়ে বাসায় আসতে বললে রাশেদ আসে না। তার মানে প্রেমিকাকে হারানোর ভয়ে সব ছেলেরাই প্রেমিকার কথা শোনে কিন্তু সেই প্রেমিকা যখন স্ত্রী হয় তখন আর তার কথা শোনার প্রয়োজন পড়ে না। প্রেমিকা থাকতে যার ডাকে রাত তিন টায় দেখতে গেছে আজ স্ত্রী কিন্তু তার ডাকে ঘরে আসে না। মানে স্ত্রীদের সেই ক্ষমতাই থাকে না।এবার বুঝলের তো প্রেমিকার ক্ষমতা বেশি নাকি স্ত্রী?
রেশমা হোসাইন